মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

পেক্ষাপট

সংগীতময়ী তিতাস বিধৌত ব্রাহ্মণবাড়িয়া গানের দেশ আর গুণীর দেশ হিসেবে এর পরিচিতি উপমহাদেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী। প্রাচীনকালে ‘সমতট’ অঞ্চলের এ জনপদটি বৃটিশ রাজত্বকালে  ত্রিপুরা রাজ্যের অর্ন্তভূর্ক্ত ছিল। ১৮৬০ সনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা এবং ১৯৮৪ সনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাসীর তুমুল আন্দোলন এবং ওবায়দুর রউফ পলু নামে সরকারী কলেজের এক মেধাবী ছাত্রের আত্নহুতির মধ্যদিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহুকুমা জেলায় রূপান্তরিত হয়। দেশের অন্যান্য স্থানের মত ‘‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া’’ নামকরন নিয়েও কিছুটা মত দ্বৈততা রয়েছে। তবে, মহারাজ রত্নমানিক্যের শাসনামলে (১৪৬৪-৬৭) হিন্দুধর্মের উচ্চ বর্ণের ব্রাহ্মণগণ এ অঞ্চলে আসেন। মহারাজ অমর মানিক্যের শাসনামলে (১৫৭৭-১৫৮৬) তাম্র শাসনদ্বারা ব্রাহ্মণরা দেবোত্তর ও ব্রাহ্মোত্তর রূপে অনেক গ্রামের অধিকার ভোগ করেন। ব্রাহ্মণরা বংশ পরস্পরায় এ এলাকায় বসবাস শুরু করতে থাকে। কালক্রমে এদের প্রচেষ্টায় শহর সভ্যতা গড়ে উঠে। এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস আদালত, শিক্ষক, ডাক্তার, মিউনিসপ্যালটির চেয়ারম্যান সর্বক্ষেত্রেই ব্রাহ্মণদের আধিক্য ছিল। আর এ থেকেই মূলত এ এলাকার নাম ‘‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া’’। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ পৌলসভার নাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া মিউনিসিপ্যালটি নামে ১৯৬৮ সনে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯২ সনের ১লা জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া ‘‘খ’’ শ্রেণী থেকে ‘‘ক’’ শ্রেণীর পৌরসভার মর্যাদা লাভ করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অর্ন্তভূক্ত এ পৌরসভার আয়তন ১৮ বর্গ কিলোমিটার এবং এর লোকসংখ্যা ১,৮৫,০০০ জন। শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ এ পৌরসভার পূর্বে অদ্বৈর্ত মল্ল বর্মনের ‘‘তিতাস একটি নদীর নাম’’ খ্যাত স্বপ্নের ছন্দে বয়ে চলা দনদী তিতাস ও সুহিলপুর ইউনিয়ন, পশ্চিমে নাটাই ইউনিয়ন, দক্ষিণে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের রামরাইল ও মাছিহাতা ইউনিয়ন, উত্তরে দেশের বৃহত্তম গ্যাস ফিল্ড ও সুহিলপুর ইউনিয়ন। ঐতিহ্যের মধ্যে পুতুলনাচ, যাত্রাপালা, মাঠা, রসগোল্লা, লেডিকিনি, রসমলাই উপমহাদেশখ্যাত।