মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

মেয়রের বার্তা

‘‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভাকে সন্ত্রাসমুক্ত পরিচ্ছন্ন

আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়তে চাই’’

  

      ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা শিক্ষা সংস্কৃতির ঐতিহ্যমন্ডিত দেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পৌরসভা। ১৮৬৮ খ্রী: প্রতিষ্ঠিত এ পৌর এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, উন্নত শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, নাগরিক সুবিধা ইত্যাদি কারণে এ শহরে দিনকে দিন বাড়ছে জনসংখ্যার চাপ। সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন সমস্যা। আমার লক্ষ্য ছিল এ শহরের মৌলিক সমস্যাগুলো সকলের পরামর্শ ও অংশগ্রহনে সমাধানপূর্বক সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করে সুন্দর  পরিচ্ছন্ন আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলব। বিগত ১৩ মার্চ ২০১১ সালের নির্বাচনে পৌরবাসী বিপুল ভোটে আমাকে মেয়র নির্বাচিত করার পর সেই লক্ষ্য অর্জনে আমি কাজ শুরু করি।

 

   পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলার জন্য প্রতিদিনকার ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণে ১২টি ওয়ার্ডের ৮৪টি কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন (সিবিও)কে ৮৪টি ভ্যানগাড়ি প্রদান করা হয়েছে। ১২টি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা  টিমভিত্তিক কাজ করছেন। শহরের আবর্জনা দ্রুত অপসারণ কাজে আমরা নতুন ৪টি গার্বেজ ট্রাক সংযোজন করেছি। ২টি ট্রান্সফরমার ষ্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে এবং শহর থেকে দ্রুত আবর্জনা সরিয়ে নিতে শহরের গোকর্ণঘাটে ডাম্পিং ষ্টেশন নির্মাণের জন্য জায়গা খরিদ করা হয়েছে।

 

   পৌরসভার আর্থিক ভীত সুদৃঢ় এবং আত্মনির্ভরশীল পৌরসভা গঠনে নতুন মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা       বাস্তবায়ণ করা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে ভাদুঘরে পৌরসভার মার্কেট নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমার দায়িত্ব গ্রহনের পূর্বে মাত্র ৩৫ ভাগ মানুষ পৌরসভার পানি সরবরাহের আওতায় ছিল, বর্তমানে আমরা ৭৫ভাগ মানুষকে এর আওতায় আনতে ৩৮ কি:মি: নতুন পাইপ লাইন নির্মাণ, ৮টি উৎপাদন নলকহপ, ওভারহেড ট্যাংক এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পানি শোধনাগার নির্মাণ করছি। আমার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে যেখানে শহরের ৬৫% মানুষকে সড়ক বাতির সুবিধা দেয়া হত সেখানে আমরা ৯০% মানুষকে সড়ক বাতির আওতায় আনতে কাজ করছি। এছাড়া কবরস্থান, পার্ক, শ্মশান ও বস্তি এলাকায় সোলার ল্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। যানজট নিরসনে শহরের প্রধান সড়ক সম্প্রসারণ, রেলগেইটে ওভার ব্রীজ এবং কাজীপাড়া ও কান্দিপাড়ায় টাউন খালের উপরের ব্রীজ দুটো ফ্ল্যাট ব্রীজ নির্মাণ করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ণে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশেষ প্রকল্পের আওতায় শহরের প্রধান প্রধান ড্রেনগুলো পরিস্কার ও সংস্কার এবং নতুন নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নাগরিক তথ্য ও সেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও সহজতর করার জন্য কর ও পানির বিল প্রদানে কম্পিউটারাইজ বিল বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। জনগনের সুবিধার্থে পৌর ভবনে নাগরিক সনদ স্থাপন করা হয়েছে। পৌরসভার বিভিন্ন তথ্যের সন্নিবেশ করে রিসোর্স সেন্টার এবং পৌরসভার ইতিহাস ঐতিহ্য ও পৌর কর্মকান্ড সম্পর্কে জনগণকে তথ্য সরবরাহ করতে একটি ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে এবং জন্ম ও মৃত্যূর নিবন্ধন অনলাইনে সরবরাহের কাজ এগিয়ে চলছে। দারিদ্র বিমোচন ও নারী উন্নয়নে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধকরণ কাযক্রম অব্যাহত আছে।  পৌরসভার সার্বিক কর্মকান্ডকে একটি চেইন অক কমান্ডের মধ্যে এনে বর্তমানে আমরা পৌরসভার কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া নাগরিক সমস্যা সমাধানে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন ও বাস্তবায়ণে পৌরসভার কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন (সিবিও) ওয়ার্ড লেবেল কো-অডিনেশন কমিটি (ডব্লিওএলসিসি) এবং টাউন লেবেল কো-অডিনেশন কমিটি (টিএলসিসি)’র সদস্যদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।

 

   দায়িত্ব গ্রহনের পর পৌর এলাকার জনগনের স্বত:ষ্ফুর্ত সার্বিক সহায়তায় গত প্রায় দেড় বছরে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জনগণের সহায়তা ও পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা দ্বিতীয় নগর পরিচালন অবকাঠামো উন্নতিকরণ সেক্টর প্রকল্পের ৩য় পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস পৌরবাসীর এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আমরা অবশ্যই এ শহরকে সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত পরিচ্ছন্ন আধুনিক পৌরসভা হিসেবে  গড়ে তুলতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।           

 

                                                             মো: হেলাল উদ্দিন

                                                             মেয়র

                                                              ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা